প্রকাশিত: Sun, Feb 26, 2023 8:20 AM
আপডেট: Mon, Jan 26, 2026 3:26 PM

ধরনীর নৈতিকতার প্রশ্ন

ইকবাল আনোয়ার: বাঘ বা সিংহ যখন কোনো প্রাণীকে শিকার করে তখন তার চেষ্টা থাকে ওই প্রাণীর শ্বাসরোধ করে তাকে মেরে তারপর তার মাংস খাওয়ার মাধ্যমে ক্ষুধা নির্ভৃত করা। শ্বাসরোধ করে ফাঁসির আসামীর মৃত্যু ঘটানো আজও কম কষ্টে হত্যার মধ্যে গন্য হয়। অবশ্য অনেক উন্নত দেশে হত্যার মাধ্যমে  বিচারকেই অনুমোদন করে না। হায়েনা বা এ জাতীয় প্রাণী বড় নির্মম। তারা দল বেঁধে শিকার ধরে এবং প্রাণীকে হত্যা না করে জীবিত অবস্থাতে সে প্রাণীর রগ রেস্যা, নাড়িভুড়ি, মাংস টেনে হিচড়ো খাওয়া শুরু করে। প্রাণীটি তখন চিৎকার করতে থাকে। যেকোনো বিবেকবান মানুষ এ দৃশ্য দেখে না কষ্ট পেয়ে থাকতে পারে না। আমার বিবেচনায় যদি কোনো প্রাণীকে অপশন দেওয়া হয়, তবে সে চাইবে হায়েনার পেটে নয় বাঘ বা সিংহের পেটে যেতে, কেননা সেটাতে কম কষ্ট। এমন অবস্থায় নীচের ফিকশনটি দেওয়া হলো। 

এতে কোনো রেশারেশি নয়, জয় পরাজয় বা জিঘাংসা নয় বরং দর্শনের ভেতরগত উপলব্দীগত জবাব ও জাগতিক নৈতিকতার সংজ্ঞা ও গভীরতা স্পর্শ করার উদ্দেশ্যে কাল্পনিকভাবে কথোপকথনটি অঙ্কিত হলো। প্রথম জন: দেখো এতগুলো হায়েনা ধরে জীবিত অবস্থায় একটি মহিষকে কেমন ভাবে খাচ্ছে। মহিষটি অসহায়। ব্যথায় চিৎকার করছে। এটাকি ঈশ^র দেখেন না? এ নির্মমতায় তার কি করণীয় নাই। দ্বিতীয় জন: এটা দেখে আমি মর্মাহত। আমার চোখ ভিজে যাচ্ছে। তোমার মহানুভব মনের হদিস পেয়ে আমি অভিভূত। আচ্ছা দোস্ত, ধরি ঈশ^র নাই। তবু তো ঘটনা এমনই ঘটছে বা ঘটবে। তা হলে প্রকৃতি কেনো এতো নিষ্ঠুর। এ নিষ্ঠুর জগতেরইকি আমরা সদস্য? আমাদের পৃথিবীকি নির্মম। 

দেউলিয়া? এটাইকি নিয়ম? তাহলে সবল দুর্বলের উপর এমন আচরণইকি করবে। এটা ভেবেই কি সমাজে এত সব হচ্ছে? প্রথম জন: না, এটা তো প্রকৃতিক নিয়ম। এটাই তো বিজ্ঞান। এটাই তো খাদ্য চক্র। দ্বিতীয় জন: আমরা তো বিজ্ঞানের কথা বলছি না। বিজ্ঞানের জবাব হিসাবে তো তোমার কথা সঠিক। আমিও তো এ উত্তর দিতে পারি। তুমি কি তা গ্রহণ করবে? গ্রহণ করলে তো দু’জন একমত হয়েই গেলাম। আমরা তো এখানে নৈতিকতার প্রশ্ন তুলেছি, নিষ্ঠুরতার প্রশ্ন তুলেছি...। লেখক: চিকিৎসক